মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৯

রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড, কক্সবাজার


ঘুরে এলাম রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড কক্সবাজার থেকে।  কক্সবাজার সৈকত ছাড়া আরো বেশ কিছু জায়গা দেখার আছে যদিও কক্সবাজার সাগর সৈকতের জন্য বিখ্যাত হয়েই থাকবে।

রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ড, কক্সবাজার সভা প্রথম মেরিন ফিস অ্যাকুরিয়াম। রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড (Radiant Fish World) বাংলাদেশ নিয়ে এসেছে প্রথম আন্তর্জাতিক মানের ফিস অ্যাকুরিয়াম দেখার সুযোগ। পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরের ঝাউতলায় বিনোদনের নতুন সংযোজন এই ফিশ মিউজিয়াম। এ্যাকুরিয়াম কমপ্লেক্সে এ আছে সাগর ও মিঠা পানির প্রায় ১০০ প্রজাতির মাছ। বিরল প্রজাতির মাছ সহ এখানে আছে হাঙ্গর, পিরানহা, শাপলাপাতা, পানপাতা, কাছিম, কাঁকড়া, সামুদ্রিক শৈল, পিতম্বরী, সাগর কুঁচিয়া, বোল, জেলিফিস, চেওয়া, পাঙ্গাস, আউস সহ আরও অনেক মাছ ও জলজ প্রাণী। ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পুকুর ও সাগরের তলদেশের বৈচিত্রময় পরিবেশ। প্রায় দুই ঘন্টা সময় লাগবে এই মেরিন ফিস অ্যাকুরিয়াম পুরোটা ঘুরে দেখতে। অ্যাাকুরিয়ামে ঢুকলে মনে হবে আপনি সাগরের তলদেশে আছে, আর আপনার চারপাশে খেলা করছে বর্ণিল প্রজাতির নানা মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেলে সমুদ্রতলের এই প্রাণীজগতের মেলা চোখের সামনে দেখার সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত হবে না। এছাড়া ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডে আছে থ্রি-নাইন ডি মুভি দেখার নান্দনিক স্পেস, লাইফ ফিশ রেস্টুরেন্ট, দেশী-বিদেশী নানা প্রজাতির পাখি, শিশুদের খেলার জায়গা, ছবি তোলার আকষর্ণীয় ডিজিটাল কালার ল্যাব, মার্কেটিং করার জন্য শপ ও ছাদে প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করার পাশাপাশি বার-বি-কিউ করার আয়োজন করা যাবে।

কিভাবে যাবেন

এই ফিস অ্যাকুরিয়াম দেখতে আপনাকে যেতে হবে কক্সবাজার। তাই দেশের যে প্রান্তেই থাকুন প্রথমেই চলে আসুন কক্সবাজার। কক্সবাজার দর্শনী স্থান ঘুরে দেখার পাশাপাশি হাতে কয়েক ঘন্টা সময় নিয়ে চলে যেতে পারেন এই জলজ জগতে। কক্সবাজার যেখানেই থাকেন সেখান থেকে অনায়াসে সিএনজি/ইজিবাইক/অটোরিক্সা দিয়ে যেতে পারবেন। কলাতলী বীচের সড়কেই পাবেন সব যানবাহান। যেতে হবে ঝাউতলা, প্রধান সড়ক, কক্সবাজার। ইজিবাইক রিজার্ভ নিলে ভাড়া নিবে ৫০-৭০ টাকা। লোকাল ইজিবাইকে ১০-১৫ টাকা দিয়েই চলে যেতে পারবেন ঝাউতলা। পৌষী রেস্টুরেন্ট এর সামনের মোড় থেকে হাতের বাম পাশে অল্প কয়েক কদম গেলেই পেয়ে যাবেন রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড। সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্যে খোলা থাকে।

রবিবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৭

Review of movies: Now You See Me


কাহিনী চারজন জাদুকরকে নিয়ে। তারা কেউই হোমরা চোমরা না, স্ট্রিট ম্যাজিশিয়ান বলা যায়। ইলিউশনিস্ট জে. ড্যানিয়েল অ্যাটলাস (জেসি আইযেনবার্গ), এস্কেপিস্ট হেনলি রিভস (আইলা ফিশার), মেন্টালিস্ট মেরিট ম্যাককিনি (উডি হ্যারেলসন) আর হাতসাফাইকর জ্যাক ওয়াইল্ডার (ডেভ ফ্র্যাঙ্কো)-কে ঘিরে কাহিনী মুভির। 'দ্য আই' বলে এক কাল্টের ডাকে তারা 'দ্য ফোর হর্সমেন' বলে একটা ম্যাজিক পারফর্মারের দল হয়ে ওঠে। স্পন্সর ইনস্যুরেন্স টাইকুন আর্থার ট্রেসলার (মাইকেল কেইন)-এর সাহায্যে তারা হয়ে ওঠে বিখ্যাত। সিনেমায় দেখা যায় লাস ভেগাসে এক জাদু প্রদর্শনীতে জাদুকর মায়া সৃষ্টির মাধ্যমে এক ফ্রেঞ্চ ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ ইউরো সরাবে বলে ঘোষণা দেয়। কথামত তারা বিপুল পরিমাণ মিলিয়ন ইউরো 'ম্যাজিক' করে সরিয়ে ফেলে এবং দর্শকদের মাথার উপর ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু এখানেই ঘটনার শেষ নয়। কিছুদিনের মধ্যেই জানা যায় যে সত্যিই ব্যাংকের ভোল্ট থেকে টাকা সরানো হয়েছে। কিন্তু কিভাবে তা সম্ভব হল কেউ তা বুঝতে পারে না। এফবিআই এজেন্ট ডিলান রোডস (মার্ক রাফালো) ও ইন্টারপোল এজেন্ট আলমা ড্রে (মেলানি লরেন্ট)শুরু করে তদন্ত। দুজনের আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্বেও এই রহস্যের কোন কূল-কিনারা পাওয়া যায় না। তাদের পিছে আরো লেগেছেন এক প্রাক্তন জাদুকর থ্যাডিয়াস ব্র্যাডলি (মর্গ্যান ফ্রিম্যান)। কিন্তু কিছুতেই তাদের আটকানো যাচ্ছে না। প্রায় শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত এই ছবিটা পুরাটাই ভালো লেগেছে।দুর্দান্ত কাহিনী, অসাধারণ স্টার কাস্ট আর কনসেপ্ট- সব মিলিয়ে এই ক্রাইম থ্রিলার ছবিটাকে ম্যাজিক্যালই বলা যায়। আমার রিভিউ বেশ পযিটিভ। দেখতে পারেন ছবিটা, শেষ পর্যন্ত হয়তো খারাপ লাগবে না।
(রেটিং - IMDb: 7.3/10, Rotten Tomatoes: 49%, Metacritic: 50%)

রেন্টাল-কুইক রেন্টালে ঋণ দেবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক


ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধন নয়, বরং সরকারের গ্যারান্টিতে বিদ্যুৎ খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যাংকগুলো। সরকারি-বেসরকারি বেশ কয়েকটি ব্যাংকে এরই মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ঋণ প্রস্তাব জমা পড়েছে। দুই মাসের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো অনুমোদন দেবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে। বেসরকারি খাতে ১ হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াটক্ষমতার ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব ৯ আগস্ট অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নির্মাণ করবে এপিআর এনার্জি, এগ্রিকো ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্টস লিমিটেড, বাংলা ট্র্যাক লিমিটেড, কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংস লিমিটেড, দেশ এনার্জি, মিডল্যান্ড পাওয়ার, ওরিয়ন পাওয়ার মেঘনাঘাট এবং সামিট করপোরেশন ও সামিট পাওয়ারের কনসোর্টিয়াম। এসব প্রতিষ্ঠান সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণ আবেদন জমা দিয়েছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খুব বেশি আগ্রহ না থাকলেও অতি উত্সাহী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। যদিও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অবস্থা বেশ নাজুক। মূলধন হিসেবে গত আট বছরে সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা জোগান দিয়েছে সরকার। গত অর্থবছরও জোগান দেয়া হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। মূলধন ঘাটতি মেটাতে বন্ডের মাধ্যমে আরো প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে ব্যাংকগুলো।

১০০ মেগাওয়াট করে দুটি ও ২০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক। জানতে চাইলে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামস-উল-ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, এর আগে আটটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্রণী ব্যাংক ঋণ দিয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে পাঁচটি এরই মধ্যে সব ঋণ পরিশোধ করেছে। বাকি তিনটির ঋণও নিয়মিত আছে। নতুন করে পাওয়া প্রস্তাবগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে গ্যারান্টি দেয়ার বিষয়টি প্রস্তাবনায় আছে বলে শুনেছি। ভালো গ্রাহক পেলে আমরা ঋণ দেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করব।
বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রস্তাব পেয়েছে সোনালী ব্যাংকও। সরকারের নিশ্চয়তায় তারাও ঋণ অনুমোদনের কথা ভাবছে বলে জানান রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ্ আল মাসুদ। তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে ১ লাখ কোটি টাকার মতো অতিরিক্ত তারল্য আছে। এর মধ্যে শুধু সোনালী ব্যাংকেরই রয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। বেসরকারি অনেক ব্যাংকের কাছে বিনিয়োগ করার মতো অর্থ নেই। এ অবস্থায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের বেশি সুযোগ রয়েছে সোনালী ব্যাংকের। বড় ঋণের কিছু আবেদন আমাদের কাছে আছে। সরকার গ্যারান্টি দিলে ভালো গ্রাহক দেখে আমরা ঋণ অনুমোদন দেব। সরকারের নিশ্চয়তায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ঋণ অনুমোদনে প্রস্তুত রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকও। তবে নতুন করে এখন পর্যন্ত কোনো প্রস্তাব ব্যাংকটি পায়নি বলে জানা গেছে। ওরিয়নের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বছরখানেক আগে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাবনা অনুমোদন করা হয়েছিল বলে জানান রূপালী ব্যাংকের এমডি মো. আতাউর রহমান প্রধান। জানা যায়, গত ২১ জুন ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়ে সভায় ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোর প্রতি আহ্বান জানান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। কিন্তু বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বিদ্যুৎ খাতে অল্প সময়ের মধ্যে এ পরিমাণ ঋণ দেয়া অসম্ভব বলে সভায় মন্তব্য করেন ব্যাংকাররা। আইনি জটিলতা নিরসনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জালাল আহমেদকে আহ্বায়ক করে গত ৪ জুলাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে উপস্থিত সদস্যরা ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন না করে সরকারের গ্যারান্টিতে বিদ্যুৎ খাতে ঋণ দেয়ার পক্ষে মত দেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৬খ (৩) ধারা অনুযায়ী ঋণ দেয়ার কথা বলেন। এ ধারা অনুযায়ী, সরকারি নিশ্চয়তা পেলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক মূলধনের ২৫ শতাংশ ঋণসীমা রাখার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতির সুযোগ রয়েছে। চলতি সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা রয়েছে কমিটির। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. ইউনুসুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যাংকগুলোর অর্থায়নের সঙ্গে অনেকগুলো কর্তৃপক্ষ জড়িত। অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জালাল আহমেদকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।


তবে দেশে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা সুখকর নয় বলে জানান ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, এর আগে অনুমোদন পাওয়া বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে দেয়া ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ উত্পাদনের অভিজ্ঞতা নেই, এমন অনেক প্রতিষ্ঠান ওই সময় রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন পেয়েছিল। ওইসব প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না। একাধিকবার পুনঃতফসিল করেও ঋণের অর্থ আদায় করা যাচ্ছে না। নতুন করে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগের আগে ব্যাংকগুলোকে এসব বিষয় ভাবতে হবে। নতুন অনুমোদনপ্রাপ্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দুটি নির্মাণ হবে ঢাকার কেরানীগঞ্জে। এর একটি স্থাপন করবে এপিআর এনার্জি ও এগ্রিকো ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্টস লিমিটেড। এছাড়া বাংলা ট্র্যাক লিমিটেডের যশোরের নওয়াপাড়ায় ১০০ মেগাওয়াট ও কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ২০০ মেগাওয়াটের এইচএসডিভিত্তিক দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন পেয়েছে। ডিজেলচালিত এসব কেন্দ্র হবে পাঁচ বছর মেয়াদি। অনুমোদন দেয়া বাকি ছয়টি কেন্দ্র হবে এইচএফওভিত্তিক ও ১৫ বছর মেয়াদি। এর মধ্যে বগুড়ায় কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংস লিমিটেড ১১৩ মেগাওয়াট, চাঁদপুরে দেশ এনার্জি ২০০, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মিডল্যান্ড পাওয়ার ১৫০, খুলনার লবণচরায় ওরিয়ন পাওয়ার মেঘনাঘাট ১০৫ এবং গাজীপুরের কড্ডায় সামিট করপোরেশন ও সামিট পাওয়ার কনসোর্টিয়াম ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে।

এবার ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি করে সুপারশপে কেনাকাটা

এটিএম বুথ থেকে গ্রাহকদের টাকা উধাও হওয়ার পর এবার কার্ড জালিয়াতি করে কেনাকাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্র্যাক ব্যাংকের তিন গ্রাহকের তিনটি ক্রেডিট কার্ড ক্লোন করে বনানীতে সুপার শপ স্বপ্ন-এর একটি আউটলেট থেকে কেনাকাটা করা হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। এই কেনাকাটা করা হয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) যন্ত্র ব্যবহার করে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতিতে তাঁরা এ ঘটনায় ব্যাংক ও এর বাইরের লোকদের সন্দেহের তালিকায় রেখে তদন্ত শুরু করেছেন।

গত বছরের ৬ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি ব্যাংক ইস্টার্ণ, সিটি, ইউসিবিএলের গুলশান, বনানী ও পল্লবীর কালশীর চারটি বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ নামের যন্ত্র বসিয়ে গ্রাহকদের কার্ডের তথ্য চুরি করে ক্লোন কার্ড তৈরি করে টাকা তুলে নেওয়া হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি ইস্টার্ণ ব্যাংকের একাধিক গ্রাহক মুঠোফোনের খুদে বার্তার মাধ্যমে তাঁদের হিসাব থেকে টাকা তুলে নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে ব্যাংকে অভিযোগ করেন। কার্ড জালিয়াতির সম্পৃক্ততা পেয়ে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি জার্মানির নাগরিক পিওতর সিজোফেন মুজারেক ও সিটি ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের কর্মকর্তা মকসেদ আলম (মাকসুদ), রেজাউল করিম ও রেফাজ আহমেদকে গ্রেপ্তার করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম গতকাল রোববার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, সাত-আট দিন আগে ব্র্যাক ব্যাংকের তিন গ্রাহকের তিনটি ক্রেডিট কার্ড ক্লোন করা হয়। বনানীতে সুপার শপ স্বপ্ন-এ মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের পিওএস যন্ত্র ব্যবহার করে কেনাকাটা করা হয়। গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে এবং জালিয়াত চক্র শনাক্তে আদালতের অনুমতি চায়। গতকাল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত ঘটনা তদন্ত করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। সাইবার অপরাধ বিভাগের কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, কার্ড জালিয়াতিতে ব্যাংক ও এর বাইরের চক্র তৎপর থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1288621